বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের অভিবাসন
প্রকাশিতঃ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ | English Version
প্রকাশিতঃ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ | English Version
২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে ১০১টি অনুমোদিত এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে কাজ করছে। মালয়েশিয়ায় অভিবাসন প্রক্রিয়াটি উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো একই পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। কিছু সংস্থা যা মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ, তারা তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও বাধা সৃষ্টি করে। বিভিন্ন এজেন্সি ও গ্রুপের মধ্যে বিবাদ এবং দেশীয় সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়ার কারণে মালয়েশিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যা রেমিট্যান্স প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এক্ষেত্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি তদন্ত এজেন্সিগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বর্তমান অস্থিরতা কমানো ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারিখে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং পরবর্তীতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ মিটিং-এর সম্মত কার্য বিবরণীর ভিত্তিতে মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত BOESL সহ ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ২০২২ সালের ৮ আগষ্ট হতে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত মোট ৪,৭২,৪৭৬ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় গমন করেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রাপ্তির দিক দিয়ে মালয়েশিয়া ৮ম থেকে ৫ম স্থানে এবং বর্তমান ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগষ্ট) ৪র্থ স্থানে উন্নীত হয়েছে।
উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্য এবং সিঙ্গাপুরসহ সকল দেশের মতোই একই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ এ সকল দেশে সকল এজেন্সি কর্মী প্রেরণ করতে পারে না। বরং ঐ সকল দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের অনুমোদন প্রাপ্ত বাংলাদেশী রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহই শুধুমাত্র কর্মী প্রেরণ করতে পারে।
২০২২ সালের ০২ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মিটিং-এ নির্দিষ্ট সংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে সেদেশে কর্মী নিয়োগ এবং এজেন্সি নির্বাচনের অধিকার সংরক্ষনের বিষয়ে মালয়েশিয়া দৃঢ় অবস্থান নেয়। কর্মীদের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের স্বার্থে বাংলাদেশ বাধ্য হয়ে ঐ প্রস্তাবে সম্মত হয়।
মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ১০১টি এজেন্সির মধ্যে অটো-এলোকেশন সিস্টেম-এ এসকল এজেন্সির মধ্যে কর্মী নিয়োগের কোটা বরাদ্দ হয়। অত:পর মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন কর্তৃক বরাদ্দকৃত কোটার অনুকূলে ডিম্যান্ড লেটার সত্যায়ন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক উক্ত ডিম্যান্ড লেটারে বর্ণিত কর্মীদের নিয়োগানুমতি এবং নির্বাচিত কর্মীদের ভিসা প্রাপ্তির পর বিএমইটি কর্তৃক চূড়ান্ত বহির্গমন ছাড়পত্র প্রদানের পরই কর্মীগণ মালয়েশিয়ায় গমন করেন। সুতরাং, এক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের মতোই একইরকম অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
যে সকল এজেন্সি কোন নির্দিষ্ট দেশে কর্মী প্রেরনে সক্ষম হয় না তারাই ঐ দেশের তালিকাভূক্ত এজেন্সির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে ঐ দেশে অভিবাসন প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্থ করার অপচেষ্টা চালায়।
অভিবাসন প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহ বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হওয়ায় এক গ্রুপ অন্য গ্রুপ বা এক এজেন্সি অন্য এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে থাকে এবং এমনকি দুদক সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় অভিযোগ করে থাকে।
কোন একটি দেশে কর্মী প্রেরণকারী এজেন্সির বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে দুদক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তের কারণে ঐ নির্দিষ্ট দেশের জন্য তালিকাভূক্ত এজেন্সি শাস্তির সম্মুখীন অথবা মিডিয়ার ক্রমাগত ক্ষতিকর অপপ্রচার নিয়োগকারী দেশে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে, যার ফলে ঐ দেশে কর্মীদের অভিবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়। এতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সহ রেমিটেন্স প্রবাহের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে, জনশক্তি রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং চূড়ান্ত বিচারে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
সরকারের এ্যালোকেশন অব বিজনেস মোতাবেক জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় হচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সুতরাং জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সকল ধরনের বিরোধ বা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে ইমিগ্রেশন অর্ডিনেন্স অনুযায়ী মন্ত্রণালয় কর্তৃক পর্যালোচনা করে উহার নিষ্পত্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পুরো সেক্টর এবং দেশের জন্য কল্যাণকর হবে।
এমতাবস্থায়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় দুদক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চলমান / সম্ভাব্য তদন্ত স্থগিত করে জনশক্তি রপ্তানি খাতে নিয়োজিত এজেন্সি সমূহকে নিয়ন্ত্রণ, তদন্ত পরিচালনা ও বিদ্যমান আইনের আওতায় তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা দান করলে এই সেক্টরে বর্তমানে যে অস্থীরতা সহ মানসিক চাপ বিরাজ করছে তা রহিত হবে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য শীঘ্রই পুনরায় উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা যায় এবং এতে অভিবাসন ব্যয় কমা সহ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রত্যাশিত হারে নিশ্চয়ই বৃদ্ধি পাবে।