মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক তথ্যাবলি
প্রকাশিতঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | English Version
প্রকাশিতঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | English Version
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা এবং বায়রা’র ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে সামনে রেখে, বায়রা’র সদস্যরা বিভিন্ন অনিয়মের কথা উল্লেখ করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। সঠিক তথ্য সম্বলিত সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা নিম্নে প্রদান করা হলো:
১৯৭৮ সালে অনানুষ্ঠানিকভাবে মালয়েশিয়া কর্মী গমন শুরু হলেও ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশী কর্মী গমন শুরু হয়। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শ্রমবাজারটি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একাধিকবার বন্ধ ও পুনরায় উন্মক্ত হয়েছে। তবে ২০০৮ সালের পর থেকে গুরুতর অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে মালয়েশিয়া সরকার দীর্ঘদিনের জন্য বাজারটি বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য বন্ধ করে দেয়।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে ১৯৯২ সালের চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই শ্রমবাজারটি পুরোপুরিভাবে বেসরকারি পর্যায়ে রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। তবে ব্যাপক অনিয়ম যথা; পাসপোর্ট জালিয়াতি, গলাকাটা পাসপোর্ট, ভুল তথ্য সম্বলিত পাসপোর্ট নিয়ে অপরাধীদের মালয়েশিয়া গমন, মেনুয়াল পদ্ধতি অভিবাসনের প্রক্রিয়ায় ত্রুটি-বিচ্যুতি, নিয়োগকর্তার নিকট হতে কর্মীদের পলায়ন, অসাধু এজেন্ট ও দালালের মাধ্যমে ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে অবৈধভাবে কাজে নিযুক্ত হওয়া প্রভৃতি কারণে মালয়েশিয়া সরকার এবং নিয়োগকর্তাগণ বাংলদেশী কর্মীদের বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ্য যে, বেসরকারি পর্যায়ে রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহের সাথে মালয়েশিয়ার কিছু নিয়োগকারী যুক্ত হয়ে কাজের সুযোগ না থাকলেও বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক কর্মীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া গমনের পর হাজার হাজার কর্মী বেকার হয়ে পড়ে। মালয়েশিয়া, বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড় দেশ এবং ফ্যাক্টরি সমূহ অনেক ক্ষেত্রে জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এবং ঐ সময় এনালগ পদ্ধতিতে সরকারি অনুমোদনসহ সকল কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষেও কার্যকরভাবে এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
এসকল কারণে একসময়ে অনিয়মের মাত্রা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, ফলশ্রুতিতে এক পর্যায়ে হাজার হাজার কর্মী বেতন ভাতা ও আবাসনের সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় কুয়ালালামপুর চলে আসে। এদের একটি অংশ বাংলাদেশ হাইকমিশন চত্বরে অবস্থান নেয়, এবং তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণের লক্ষ্যে হাইকমিশন ঘেরাও করে। এছাড়া কুয়ালালামপুরসহ রাজধানীর বাইরের শহর গুলোতে কর্মীগণ ব্রিজের নিচে ও খোলা ময়দানে দিনযাপন করা শুরু করে। এতে মালয়েশিয়ার জনসাধারণ বাংলাদেশী কর্মীদের বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। ফলশ্রুতিতে ২০০৯ সালের ১০ই মার্চ হতে হতে ২০১২ সাল পর্যন্ত সাধারণ কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া শ্রমবাজারটি পুরোপুরি বন্ধ থাকে।
২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত:
২০১২ সালে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা এবং দু'দেশের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে সম্মতি দিলেও তারা শুধুমাত্র সরকারি পর্যায়ের কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। এই প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় যা G2G নামে পরিচিত।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ হাজার কর্মী পাঠানোর জন্য মালয়েশিয়া সরকার চাহিদাপত্র প্রদান করে। এজন্য বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১৪ লক্ষ কর্মী বিএমইটির মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় বিমান টিকেট ও আনুসঙ্গিক ব্যয় নিয়োগকারীর বহন করার কথা ছিল। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাগন বাংলাদেশ হতে কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে ২০১২ সালের পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ০৪ (চার) বছরে মাত্র ০৮ (আট) হাজারের মত কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে সক্ষম হন। এই পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগে নিয়োগকর্তাগণ আগ্রহী না হওয়ায় মূলত: G2G পদ্ধতি সফল হয়নি।
সরকারিভাবে কর্মী গমন উল্লেখযোগ্য না হলেও অবৈধভাবে সমুদ্রপথে এবং থাইল্যান্ড সীমানা দিয়ে বহু সংখ্যক বাংলাদেশী কর্মী মালয়েশিয়া গমনের চেষ্টা করে। এর ফলে অনেক কর্মী সমুদ্র পথে দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। অনেকে মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পরে সেদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ধরা পড়ে এবং কিছু সংখ্যক কর্মী মালয়েশিয়ায় পৌঁছে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেদেশে কর্মে নিযুক্ত হয়। তবে অবৈধ পথে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় গমনের ক্ষেত্রে অনেকে দু'দেশের সীমান্তে মৃত্যুবরণ করেন এবং ২০১৫ সালে থাইল্যান্ডের সীমান্ত অঞ্চলে এ সকল বাংলাদেশীদের গণকবর আবিষ্কৃত হয়। এসকল কারণে সরকারীভাবে G2G পদ্ধতি এবং কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির বাইরে সকল রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে মালয়েশিয়া সরকার অনীহা প্রকাশ করে।
২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত:
২০১৬ সালে ১৮ই ফেব্রুয়ারি তারিখে দু'দেশের সরকারের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে G2G পদ্ধতির পাশাপাশি সীমিত সংখ্যক (১০টি) বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এই সমঝোতা স্মারকটি G2G Plus নামে অবহিত। এই চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মালয়েশিয়া সরকার এই মর্মে অভিমত ব্যক্ত করে যে, সরকারি এবং সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ করলে উপরেবর্নিত অনিয়ম, জালিয়াতি অনেকটা বন্ধ হবে, এবং অভিবাসন ব্যয় অনেকটা কমে আসবে। এছাড়া কোন অনিয়ম হলে, ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সহজে চিহ্নিত করে দায়-দায়িত্ব নিরূপণের পর তাদেরকে জবাবদীহিতার আওতায় আনা সম্ভব হবে। একই সাথে মালয়েশিয়া সরকার অনলাইন ভিত্তিক কেন্দ্রিক ডিজিটাল প্লাটফর্ম এর আওতায় কর্মী নিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতি চালু করে যা’ FWCMS (Foreign Workers Centralized Management System) নামে অভিহিত। এতে পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম অনেকাংশেই দূর হয়েছে। ২০১৭-১৮ সালে প্রায় ২.৭৮ লক্ষ কর্মী বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সীর মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় গমন করেন। কর্মীদের অভিযোগ না থাকলেও, কিছু এজেন্সি এবং প্রতিবেশী দেশসমূহের প্রতিযোগীদের ভুল তথ্যের কারণে মালয়েশিয়া সরকার ২০১৯ সালের মার্চ মাসে এই কর্মসূচী স্থগিত করে। মালয়েশিয়ার তৎকালীন মানব সম্পদ মন্ত্রী এম. কুলাসেগারান ২০১৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার জাতীয় সংসদে একটি তদন্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করেন, যেখানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপর মালয়েশিয়া পুনরায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।
২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত:
২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দু-দেশের সরকারের সক্রিয় উদ্যোগে এবং বায়রা’র সহযোগিতায় একটি নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রাথমিকভাবে ২৫টি, পরবর্তীতে সরকারি খাতের BOESL সহ মোট ১০১ এজেন্সিকে অনুমোদন প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য যে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রেরিত ১,৫২০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্য হতে সীমিত সংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকারের কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তালিকাবহির্ভূত রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহ মানববন্ধন, মিটিং-মিছিল ও ঘেরাও এর মতো কর্মসূচি দিয়ে অভিবাসন প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত করায় মন্ত্রণালয় বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহকে সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করার বিষয়ে অনাপত্তি জ্ঞাপন করে। এতে মালয়েশিয়া সরকারের তালিকাভুক্ত ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির বাইরে তালিকবর্হিভূত ৭৩৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ বৈধ-অবৈধ মিলে প্রায় ১১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি / এজেন্ট ভিসা ক্রয়-বিক্রয় ও সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পায়। Auto allocation-এর মাধ্যমে তালিকাভূক্ত ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে কোটা বন্টন হওয়ায় তাদের জন্য ভিসা ক্রয়-বিক্রয়ের প্রয়োজন না হলেও, তালিকবর্হিভূত ১১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি/এজেন্ট সম্পৃক্ত হয়ে ভিসা ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হওয়ায় অভিবাসন ব্যয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার বন্ধ শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের লক্ষে ২০২১ সালের ১৯শে ডিসেম্বর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে এবং উপরিউক্ত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ২০২২ সালের ০২রা জুন তারিখে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ায় মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ মিটিং-এ এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, "মালয়েশিয়া সরকার অনলাইন ভিত্তিক স্বচ্ছ পদ্ধতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত এজেন্সিসমূহের মধ্য হতে সীমিত সংখ্যক এজেন্সি নির্বাচন করবে।"
প্রমাণক:
1. সমঝোতা স্মারকের ২৮ নম্বর পৃষ্ঠার ৫ ও ৬ নম্বর পয়েন্ট
2. জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ মিটিংয়ে উল্লিখিত
এই প্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত সকল ১৫২০টি বৈধ লাইসেন্সের মধ্য হতে মালয়েশিয়া সরকার প্রাথমিকভাবে ২৫টি লাইসেন্স এবং পরবর্তীতে সরকারি খাতের BOESL সহ মোট ১০১টি লাইসেন্স তালিকাভূক্ত করে।
সুতরাং, সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগটি সত্য নয়। বরং দুই দেশের সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতি মোতাবেক এ সকল এজেন্সি মালয়েশিয়ায় জনশক্তি প্রেরণের জন্য তালিকাভূক্ত হয়।
মালয়েশিয়া সরকারের নির্ধারিত FWCMS-এর মাধ্যমে Auto Allocation System-এ ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগের কোটা বরাদ্দ হয়। উক্ত বরাদ্দকৃত কোটার অনুকূলে বাংলাদেশ হাই কমিশন কর্তৃক ডিমান্ড লেটার সত্যায়ন এবং মন্ত্রণালয়ের নিয়োগানুমতির পর কর্মীদের মেডিকেল, কলিং ভিসা ও ই-ভিসা সংগ্রহ করা হয় এবং পরবর্তীতে বিএমইটি’র বহির্গমন ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর কর্মীদেরকে মালয়েশিয়ায় প্রেরণ করা হয়। তালিকাভূক্ত এজেন্সি, মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক Auto Allocation System-এ কোটা বরাদ্দ পেয়েছে বিধায় মালয়েশিয়ার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ভিসা ক্রয়ের প্রয়োজন হয়নি বরং উক্ত সিস্টেমে বরাদ্দপ্রাপ্ত কোটার কর্মীদেরকে নির্ধারিত পদ্ধতি অবলম্বন করে মালয়েশিয়ায় প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে।
প্রমাণক: বরাদ্দকৃত কোটার একটি নমুনা প্রদান করা হলো
তালিকাভুক্ত সকল এজেন্সি সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় গ্রহণ করেছে, অতিরিক্ত কোন অর্থ গ্রহণ করেনি। কর্মীদের নিকট তাদের অঙ্গীকারনামা সহ গৃহীত অর্থের রিসিট প্রদান করা হয়েছে।
তালিকাভুক্ত এজেন্সী ভিসা ক্রয়-বিক্রয় বা অন্য কোন কারণে কোন এজেন্সির কাছ থেকে কোন অর্থগ্রহণ বা প্রেরণ করেনি। তালিকাভুক্ত ১০১টি বেসরকারি এজেন্সি তাদের নিজ নিজ কোটার কর্মীদের জন্য অভিবাসন ফি গ্রহণ করে মালয়েশিয়ায় প্রেরণ করেছে।
আমাদের ধারণা, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা এবং বায়রা’র ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্যরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। এমনকি, বায়রা’র নির্বাহী কমিটির সভায় হামলা এবং অফিসে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। জনশক্তি রপ্তানির খাত এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের স্বার্থে সঠিক তথ্য প্রচার হওয়া প্রয়োজন, কারণ ত্রুটিপূর্ণ সংবাদ পুরো শ্রমবাজারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ সহ অন্য ১৪টি সোর্স কান্ট্রি হতে ০১ জুন, ২০২৪ তারিখ হতে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক ইত:মধ্যে ইস্যুকৃত কোটার সংখ্যা, ইকোনোমিক প্ল্যানিং ইউনিট অনুমোদিত বৈদেশিক কর্মীর সর্বমোট লক্ষ্যমাত্রা (২৫ লক্ষ) অতিক্রম করায় মালয়েশিয়া সকল সোর্স কান্ট্রি হতে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ০১ মার্চ ২০২৪ তারিখের এক সার্কুলারে সকল সোর্স কান্ট্রি হতে কোটাপ্রাপ্ত বৈদেশিক কর্মীদেরকে সর্বশেষ ৩১ মে, ২০২৪ তারিখের মধ্যে প্রবেশের সময় নির্ধারণ করে।
প্রমাণক: বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সর্বশেষ ঘোষণা
এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার একাধিক গণমাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের বিষয়ে ৩১ মে এর পর সময়সীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই সম্পর্কিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ: Entry Of Foreign Workers: No Plans For Extension Of May 31 Deadline
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চক্র গড়ে বিপুল টাকা পাচারের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। তালিকাভুক্ত কোনো এজেন্সি মালয়েশিয়া হতে ভিসা ক্রয়-বিক্রয় বা সেদেশে অর্থ প্রেরণের সাথে জড়িত নয়। তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কোটা বরাদ্দ পেয়েছে, তাই ভিসা ক্রয়ের প্রয়োজন হয়নি। কোন কর্মী সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের অধিক অর্থ প্রদান করেছে বলে অভিযোগ নেই।
এখানে উল্লেখ্য যে, তালিকা বহির্ভূত মধ্যস্বত্বভোগী অনুমোদনহীন এজেন্সি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে ভিসা ক্রয় করে, Dummy Demand letter এবং Power of Attorney নিয়ে কর্মী সরবরাহ ও নির্বাচনের অধিকার/নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে, ফলে তালিকাভুক্ত এজেন্সীগুলো নিয়োগকারীর নির্বাচিত প্রতিনিধির নিকট হতে কর্মী গ্রহণ করতে বাধ্য হয় ফলে তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো হিসাবে, শুধুমাত্র প্রসেসিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। কর্মী নির্বাচনে সরাসরি তালিকাভুক্ত এজেন্সি সম্পৃক্ত না থাকায় অধিবাসন ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ অনুমোদনহীন এজেন্সির কাছে চলে যায়। এই সুযোগে তারা অভিবাসন ব্যয় বাবদ ৫ লক্ষ টাকা, ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি আদায় করে।
অনুমোদনহীন এজেন্সি কর্তৃক কর্মীদের নিকট থেকে অধিক অর্থ গ্রহণ ও ভিসা ক্রয় বাণিজ্য গোপন করার স্বার্থে মানি লন্ডারিং এর দায় অনুমোদিত এজেন্সিগুলোর ওপর চাপানোর চেষ্টা করে।
অনুমোদনহীন এজেন্সির Dummy Demand letter এবং Power of Attorney কিছু নমুনা নিম্নে প্রদান করা হলো:
কিছু অনুমোদনহীন এজেন্সি পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি নোটারি করে তালিকাভুক্ত এজেন্সির কাছে উপস্থাপন করে এবং তাদের মাধ্যমে কর্মী গ্রহণের জন্য নিয়োগকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে। একদিকে তারা ভিসা ক্রয় বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে নিয়োগকর্তার দ্বারা যাবতীয় ডকুমেন্ট নিয়ম-বহির্ভূতভাবে প্রস্তুত ও উপস্থাপন করছে, অন্যদিকে সরাসরি কর্মী সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ ঐ সকল অনুমোদনহীন এজেন্সি তালিকাভুক্ত এজেন্সিদের কাছে অঙ্গীকারনামা দিয়ে সকল নিয়ম নীতি অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ইত:পূর্বে বিগত ২০১৭-১৮ সালে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি মর্মে তদন্তকাজের পরিসমাপ্তির ঘোষণা করে।
এই ক্ষেত্রে অধিকাংশ তালিকাভুক্ত এজেন্সির মতামত প্রতিফলিত হয়নি। বরং কিছু এজেন্সি ব্যবসা-পরবর্তী সময়ে, নির্বাচন পূর্ববর্তী অপপ্রচারণা সহ কর্মীদের নিকট থেকে অধিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট প্রকাশের পর মালয়েশিয়ার Scoop Online News Portal এ মালয়েশিয়ার Anti-Corruption Commission-এর প্রধান জনাব আজম বাকী এর বক্তব্য উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে
তান শ্রী আজম বাকীর বক্তব্যটির সারাংশ নিম্নে বাংলায় উপস্থাপন করা হলো:
"মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (MACC) প্রধান কমিশনার তান শ্রী আজম বাকী বলেন: বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ার বাজারে নিয়োগের সাথে জড়িত একটি বাংলাদেশি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ সম্পর্কে ঢাকার একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি Scoop কে বলেন: “বেস্টিনেটের বিরুদ্ধে মামলা অপরাধমূলক প্রমাণের অভাবে বন্ধ করা হয়েছে”
প্রথম আলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে আজম বলেন: MACC বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় নিয়োগের সাথে সম্পর্কিত অর্থ পাচারের অভিযোগগুলি তদন্ত করেছে, কিন্তু কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আজম Scoop একটি বার্তায় বলেন: “আমরা প্রায় এক বছর আগে এই বিষয়টি সক্রিয়ভাবে তদন্ত করেছি এবং অভিযোগগুলির কোনো সত্যতা পাইনি, আমরা কর্মীদের অতিরিক্ত ফি নেওয়ার কারণে মালয়েশিয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাইনি”।"
উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের ন্যয় মালয়েশিয়া সরকার ও নির্দিষ্ট সংখ্যক ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী প্রেরণের সুযোগ দেয়। দু’দেশের সরকার ভিসা ক্রয়-বিক্রয় বন্ধের লক্ষে Auto Allocation System প্রচলন করে যাতে উচ্চ মূল্যে ভিসা ক্রয়ের পথ বন্ধ হয়।
অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির সঠিক কারণ:
প্রায় ১১০০ তালিকা বহির্ভূত মধ্যস্বত্বভোগী অনুমোদনহীন এজেন্সি নিয়োগকারীর নিকট হইতে Dummy Demand letter এবং Power of Attorney নিয়ে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ায় অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। অথচ ঐ সকল অনুমোদনহীন এজেন্সিদের কর্মী অভিবাসনের কাজে সম্পৃক্ত থাকার কোনরূপ আইনগত অধিকার নাই।
প্রমাণক: এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি এম. সারাভানান এর মিডিয়া স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করা হলো। তাছাড়াও ইউটিউবে প্রকাশিত দুইটি প্রাসঙ্গিক ভিডিও যাচাইয়ের স্বার্থে উপস্থাপন করা হলো: Video 1 এবং Video 2
এ দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা প্রতিষ্ঠান, Bestinet Sdn. Bhd মালয়েশিয়ান কোম্পানি, যা মালয়েশিয়া সরকারের নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে তার একটি অনুমোদিত শাখা অফিস রয়েছে।
অন্যদিকে Bestinet Bangladesh Ltd. বাংলাদেশে রেজিস্ট্রিকৃত একটি কোম্পানি, এ দু’টি কোম্পানির মালিকানা পরিচালনার নিয়ম-নীতি ও ব্যবসার প্রকৃতি সম্পূর্ণ পৃথক।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত "মালয়েশিয়ার বেস্টিনেটের সঙ্গে বাংলাদেশের বেস্টিনেটের কোনো সম্পর্ক নেই। দুটি আলাদা কোম্পানি। বাংলাদেশে কোনো ব্যবসা না পাওয়ায় আমিনুল ইসলাম এটির অংশীদারত্ব ছেড়ে দিয়েছেন" বক্তব্যটি সঠিক।
মালয়েশিয়া সরকার Malaysian Employment Facilitation Centre (MEFC)-এর মাধ্যমে শুধুমাত্র কর্মী ভিসা প্রসেসিং এর অনুমোদন দেয়। অন্যান্য অনুমোদিত ভিসা সেন্টারকে কর্মী ভিসা সহ ভিজিট/ট্যুরিস্ট, মেডিকেল, স্টুডেন্ট প্রভৃতি ক্যাটাগরির ভিসা প্রসেস করার অনুমোদন দেয়।
তবে মালয়েশিয়ায় সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস হতে MEFC স্থলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কোম্পানিকে ভিসা প্রসেসিং এর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল সম্পূর্ণ বিনা খরচে (Employers Pay Model / Zero Cost Migration) প্রায় ৪০০ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে এবং নিয়োগকারী কোম্পানি সকল অভিবাসন ব্যয় বহন করেছে এবং আমাদের এজেন্সিকেও ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়া হতে রিক্রুটিং চার্জ পরিশোধ করেছে।
বিবিগত ২০১৭-১৮ এবং ২০২২-২৪ মেয়াদে ০৭ লক্ষ ৫৪ হাজার কর্মীর কর্মসংস্থান হওয়ার ফলে রেমিট্যান্সের দিক দিয়ে মালয়েশিয়া বর্তমানে ৪র্থ স্থানে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মোতাবেক বিগত ২০২১-২২, ২২-২৩, ২৩-২৪ অর্থবছরে মালয়েশিয়া হতে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ যথাক্রমে ১০২১.৮৫, ১১২৫.৯০ এবং ১৭৪৪.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সুতরাং, ইহা স্পষ্ট যে মালয়েশিয়ায় কর্মী গমনের ফলে ২০২২-২৪ মেয়াদে (২২ মাসে) যেমন পৌনে পাঁচ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে ঠিক একইভাবে ২০২১-২২ এর তুলনায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭১ শতাংশ রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১,৫১৫.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এই হারে বর্তমান অর্থবছরের শেষে মালয়েশিয়া হতে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা যায়। এই রেমিট্যান্স ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় তিন গুণ বেশি।
২০২২ সালের ৮ই আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১শে মে পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় পৌনে পাঁচ লক্ষ বাংলাদেশী কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে, যা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির একটি বড় মাইলফলক। অনলাইন ভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার ফলে কোন কর্মী প্রতারিত হননি এবং সবাই যথা নিয়মে কাজে যোগদান করেছেন ও নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। এতে বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মালয়েশিয়া বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ৮ম থেকে ৪র্থ স্থানে উন্নীত হয়েছে। এসকল কর্মীগন বর্তমান বছরের শুরু হতে ন্যুনতম ১৭০০ রিঙ্গিত করে মাসে বেতন পাচ্ছেন এবং এই হারে তারা বছরে অন্তত: ২৬,২৫৫ (৪৭৬,৬৭২ x ১৭০০ x ১২ x ২৭) কোটি টাকা আয় করবেন যার অধিকাংশই কর্মীগণ দেশে তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে প্রেরণ করবেন।
মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ হতে যৌক্তিক অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের দ্বার উন্মোচিত হলে বর্তমান ২০২৫ সালেই প্লান্টেশন এবং কৃষি খাতে অন্তত: ০২(দুই) লাখ কর্মী প্রেরণ সম্ভব এবং এই হারে আগামী ৫ (পাঁচ) বছরে আরো প্রায় ০১ মিলিয়ন কর্মী প্রেরণ করা সম্ভব হবে। এই ব্যাপক সংখ্যক কর্মীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মালয়েশিয়া হতে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় মধ্যস্বত্বভোগী বা নিয়োগকর্তা কর্তৃক Power of Attorney মারফত নিয়োজিত এজেন্ট প্রথা বাদ দিয়ে মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক অনুমোদিত এজেন্সিসমূহকে কর্মী বাছাইসহ সমগ্র প্রক্রিয়া সম্পন্নের দায়িত্ব দেওয়া হলে অভিবাসন ব্যয় অন্তত: ৬০% কমে যাবে।
কোন একটি দেশের বিশেষত: মালয়েশিয়ার সরকার কর্তৃক তালিকাভূক্ত এজেন্সি সমূহের বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে দুদক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পুন:পুন: তদন্ত অথবা মিডিয়ার ক্রমাগত অপপ্রচার মালয়েশিয়ার নিয়োগকার্তাদের উপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং নিয়োগকর্তাগণ অন্য সোর্স কান্ট্রির প্রতি আগ্রহী হয়, যার ফলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের অভিবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারের এ্যালোকেশন অব বিজনেস মোতাবেক জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহকে নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যমান আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় সহযোগীতা দান করলে এই সেক্টরে বর্তমানে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা রহিত হবে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য শীঘ্রই পুনরায় উন্মুক্ত হবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
“বৈধ ও তালিকাভুক্ত এজেন্সির বিরুদ্ধে তদন্ত বা মিডিয়ার অপপ্রচারের কারণে নিয়োগকারী দেশে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে, যা কর্মীদের অভিবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করে। এতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিটেন্স প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জনশক্তি রপ্তানি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য তদন্ত স্থগিত করে এজেন্সিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা দান করলে এই সেক্টরের অস্থিরতা কমবে এবং শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হবে। এতে অভিবাসন ব্যয় কমবে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।”
অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের সাথে ইতিবাচক আলোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশী কর্মীদের কর্মসংস্থান এর সুযোগ গ্রহণ।