অনুমোদনহীন রিক্রুটিং এজেন্সির অবৈধ ভিসা বাণিজ্যে অভিবাসন ব্যয় বেড়েছে
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৪ | English Version
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৪ | English Version
সৌদি আরবের পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে ৮ই আগস্ট পুনরায় উন্মুক্ত হয়। অতঃপর ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ২২ মাস সময়ে সীমিত সংখ্যক ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে পৌনে পাঁচ লক্ষ কর্মী মালয়েশিয়া গমন করে। এ সকল কর্মীগণের মূল্যবান রেমিটেন্সের ফলে মালয়েশিয়া হতে বর্তমানে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স সমগ্র বিশ্বে ৪র্থ স্থানে উন্নীত হয়েছে।
সৌদি আরবের পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে ৮ই আগস্ট পুনরায় উন্মুক্ত হয়। অতঃপর ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ২২ মাস সময়ে সীমিত সংখ্যক ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে পৌনে পাঁচ লক্ষ কর্মী মালয়েশিয়া গমন করে। এ সকল কর্মীদের সকলেই কাজ পেয়েছেন, নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া প্রবাসী কর্মীগণ রেমিটেন্স প্রেরণের দিক দিয়ে অষ্টম থেকে চতুর্থ স্থানে উঠেছেন।
২০২২-২৪ সময়ে সীমিত সংখ্যক ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী প্রেরিত হলেও প্রকৃতপক্ষে তালিকা বহির্ভূত ৭৩৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ আরো মধ্যস্বত্বভোগী এজেন্ট মিলে ১১০০টি এজেন্সির অধিক মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে সম্পৃক্ত হয়েছে। বায়রা’র অধিকাংশ সদস্যবৃন্দ মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে কোন না কোন পর্যায়ে সম্পৃক্ত বা লাভবান হওয়ার পরও সিন্ডিকেট গঠন, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, ভিসা প্রাপ্ত সকল কর্মী মালয়েশিয়া না যেতে পারাসহ বিভিন্ন ভাবে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়াটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করছে। যা’ দেশের জনশক্তি রপ্তানি সেক্টর এবং বিশেষতঃ কর্মীদের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার বন্ধ শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের লক্ষে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে এবং উপরিউক্ত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ২০২২ সালের ০২ জুন তারিখে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ায় মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ মিটিং-এ এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, মালয়েশিয়া সরকার সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী গ্রহণ করবে এবং মালয়েশিয়া সরকার অনলাইন ভিত্তিক স্বচ্ছ পদ্ধতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত এজেন্সিসমূহের মধ্য হতে নির্দিষ্ট সংখ্যক এজেন্সি নির্বাচন করবে। এ প্রসঙ্গে সমঝোতা স্মারকের সংশ্লিষ্ট ধারা-
Appendix B: Para: C-V: The Government of Malaysia shall select BRA automatically through the online system from the list provided by the Government of the People’s Republic of Bangladesh & VI: The Government of Malaysia shall ensure transparency and fairness of the online system for selection of BRA and distribution of quota এবং
Joint Working Group Meeting-এর সম্মত কার্যবিবরণী ক্রমিক নং: 6.1: Bangladesh side mentioned that the recruitment of workers from Bangladesh to Malaysia will be based on the MoU between these two countries on the employment of workers. According to Article C (v) and C (vi) of Appendix B of the MoU.
এই প্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত সকল ১৫২০টি বৈধ লাইসেন্সের মধ্য হতে মালয়েশিয়া সরকার প্রাথমিকভাবে ২৫টি লাইসেন্স এবং পরবর্তীতে সরকারি খাতের BOESL সহ মোট ১০১টি লাইসেন্স তালিকাভূক্ত করে।
সমঝোতা স্মারক বা Joint Working Group Meeting-এ সম্মত কার্যবিবরণীতে সহযোগী এজেন্সি বা নিয়োগকর্তা কর্তৃক স্থানীয় (ঢাকায়) এজেন্ট নিয়োগের কোন সুযোগ নেই। সুতরাং, সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি বা নিয়োগকর্তা কর্তৃক নিয়োজিত এজেন্টের কোন কাজই বিধি সম্মত নয়। তা’ সত্বেও এসকল তালিকাবর্হিভূত এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে অবৈধভাবে যুক্ত হয়ে পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সমঝোতা স্মারক মোতাবেক তালিকাভূক্ত এজেন্সির অনুকূলে Auto Allocation পদ্ধতিতে কোটা বরাদ্দ হয়েছে। তবে তালিকাবর্হিভূত এজেন্সিসমূহ নিয়ম বর্হিভূতভাবে নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করে তাদের লোভ দেখিয়ে ভিসা ক্রয় করে এবং Power of Attorney বলে নিয়োগকর্তার ঢাকাস্থ স্থানীয় এজেন্ট নিয়োজিত হয়ে কোটাপ্রাপ্ত এজেন্সিকে বাধ্য করেছে তার পছন্দ করা কর্মীদের কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং সর্বোপরি বিএমইটি ছাড়পত্র জোগাড় করে উক্ত কোম্পানিতে কর্মীদের প্রেরণের ব্যবস্থা করার জন্য। অর্থাৎ কর্মী সরবরাহের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তালিকাবর্হিভূত এই শ্রেণীর রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহ।
কোটার বরাদ্দপ্রাপ্ত অনুমোদিত এজেন্সি বাধ্য হয়ে নিয়োগকর্তার স্থানীয় এজেন্টের বাছাই করা কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ করতে বাধ্য হয়। কেননা উক্ত এজেন্সির সরবরাহকৃত কর্মী ছাড়া নিয়োগকর্তা অন্য কোন কর্মীকে নিতে ইচ্ছুক ছিল না। এই ক্ষেত্রে নিয়োগকারী এবং তার নিয়োজিত স্থানীয় এজেন্টের মধ্যে ভিসা ক্রয়-বিক্রয়সহ অবৈধ প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের অর্থ লেনদেন/পাচার হয়। অথচ এই পুরো প্র্রক্রিয়ার জন্য তালিকাবর্হিভূত এই রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহ কোটাপ্রাপ্ত (তালিকাভূক্ত) এজেন্সির উপর দোষ চাপিয়েছে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের বিধি-বিধান মেনে তালিকাভুক্ত ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ব্যবস্থা করে। দুই দেশের সরকারের কাছে কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়ায় তারা আইনগত দায়বদ্ধতার ভিতর থেকে এই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক কাজ সম্পন্ন করেছে যথা:
হাই কমিশনের সত্যায়ন প্রক্রিয়া হতে শুরু করে মন্ত্রণালয় নিয়োগানুমতি
নিবন্ধন
মেডিকেল
কলিং ভিসা
ট্রেনিং
বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স
মালয়েশিয়ায় প্রেরণ
নিয়োগকারী কর্তৃক কর্মীদেরকে মালয়েশিয়া বিমানবন্দরে গ্রহণের ব্যবস্থা
কাজে যোগদান ও নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ
প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিকে আইন ও বিধি মোতাবেক দায়িত্বের সাথে কাজ করতে হয়েছে এবং প্রতিটি পর্যায়ে উভয় সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কাছে প্রয়োজনে জবাবদিহি করতে হয়েছে। এমনকি চাকরিতে যোগদানের পর কিছুদিন নিয়মিত বেতন ভাতা পাওয়ার পরও স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোন কারনে কর্মী দেশে ফিরে আসলে তাদের ক্ষতিপূরণে ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
দু’দেশের প্রচলিত বিধি-বিধানের আওতায় এই সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সির কোন ভূমিকা না থাকায় তারা ঢাকায় মানববন্ধন ও মিটিং মিছিল করেছে এবং তাদের এই অবৈধ কাজকে সমর্থন করার জন্য মন্ত্রণালয় এবং সরকারের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। মন্ত্রণালয় শেষ পর্যন্ত এসকল এজেন্সির অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়া বিষয় মেনে নেয়। উক্ত মধ্যস্বত্বভোগী সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি ভিসা ক্রয় এবং অবৈধ লেনদেনের কারণে এক একটি ভিসার মূল্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠিয়েছে। এই অর্থ সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সিগণ অবৈধ পন্থায় নিয়োগকর্তাকে পরিশোধ করেছে। লাইসেন্সধারী এসকল ৭৩৫টি সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা আমাদের হাতে এসেছে এবং উহার সঠিকতা যাচাই করা হয়েছে।
অন্যদিকে তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিদের ভিসা ক্রয়-বিক্রয়ের কোন প্রয়োজন ছিল না। মালয়েশিয়া সরকারের Auto Allocation System -এ প্রাপ্ত কোটার কর্মীদেরকে বাছাই করে মালয়েশিয়া প্রেরণ করা তার দায়িত্ব কর্তব্য ছিল। যেহেতু নিয়োগকর্তা ভিসা বিক্রি করে সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সিকে স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগ করে কর্মী সাপ্লাইয়ের দায়িত্ব দিয়েছে এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও কর্মীগণের বৃহত্তর স্বার্থে তাদের কাজকে মেনে নিয়েছিল, সেজন্য তালিকাভুক্ত ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সি সকল দায়িত্ব ঘাড়ে নিয়েও সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সির সরবরাহকৃত কর্মীকে মালয়েশিয়ায় প্রেরণ করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগণ সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে এই মর্মে Undertaking গ্রহণ করে যে, এসকল কর্মীর কোন ধরনের সমস্যা হলে তারা দায়িত্ব নিয়ে উহার সমাধান করতে বাধ্য থাকবে। যদিও তাদের আইনগত কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না।
মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূলত: বিমান টিকেট এবং অন্যান্য যুক্তিসঙ্গত কারণে যখন কিছু কর্মী মালয়েশিয়ায় গমনে অসমর্থ হলো তখন ভিসা ক্রয়-বিক্রয়কারী এসকল মধ্যস্বত্বভোগী রিক্রুটিং এজেন্সি সকল দায়-দায়িত্ব তালিকাভুক্ত কোটাপ্রাপ্ত এজেন্সির উপর চাপিয়ে দিল। এসকল সহযোগী এজেন্সিরা একদিকে যেমন বলেছে যে কোটাপ্রাপ্ত মূল রিক্রুটিং এজেন্সি ১ থেকে দেড় লাখ টাকা গ্রহণ করেছে আবার কর্মীপ্রতি অভিবাসন ব্যয় হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। তাহলে এই সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা অবৈধ পন্থায় ভিসা ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি গ্রহণ করেছে এবং যার একটি বড় অংশ অবৈধ পন্থায় নিয়োগকারীকে পরিশোধ করেছে। এরাই দুই সরকারের নিরাপদ ও স্বল্প ব্যয়ে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় মারাত্মক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশকি কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মহোদয় এ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এই মর্মে সিদ্ধান্ত দেন যে, কোটা প্রাপ্ত মূল এজেন্সিসমূহ সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে যে অর্থ গ্রহণ করেছে তা’ সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সিকে ফেরত দিবে এবং সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মীদের কাছ থেকে গৃহীত সমূদয় অর্থ ফেরত দিবে। মাননীয় উপদেষ্টার নির্দেশনা মোতাবেক কোটাপ্রাপ্ত এজেন্সি সমূহ কর্মীদের জন্য গৃহীত অর্থ সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সিকে ফেরত দিলেও সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি কর্তৃক উক্ত অর্থ কর্মীদেরকে বুঝিয়ে দেয়ার হার ২৫% এর মতো।
উল্লেখ্য যে, সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সির অনেকেই অনুমোদিত ১০১টি এজিন্সর অংশীদার হেসেবে, ভিসা ক্রয়-বিক্রয়ে যুক্ত থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ লেনদেন করে বিপুলভাবে লাভবান হওয়ার পরও আসন্ন বায়রা নির্বাচনের নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দিতার কারণে মালয়েশিয়া সরকার নির্ধারিত সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী প্রেরণের প্রক্রিয়াটির তীব্র সমালোচনা ও মিডিয়ায় ভুল তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, Human Resource Development Center (RL- 452 ) এর ম্যানেজিং পার্টনার জনাব মোঃ ফখরুল ইসলাম, সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে নিয়োজিত হয়ে মালয়েশিয়া হতে চড়া দামে ভিসা ক্রয়-বিক্রয় করেছেন। অবৈধ প্রক্রিয়ায় ভিসা ক্রয় মূল্য অবৈধভাবে নিয়োগকর্তাকে পরিশোধ করেছে। আবার Tribeni International (RL-22) এবং Celebrity International (RL-503) এজেন্সির শেয়ার হোল্ডার হিসেবে মূল তালিকাভুক্ত ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে ব্যবসা করেছেন এবং একই সাথে তার নিজস্ব মেডিকেল সেন্টার (Welcome Diagnostic & Medical Center)-এর মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মীর মেডিকেল করে বৈধ-অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেছেন, যার একটি বড় অংশ ভিসা ক্রয় বাবদ মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তাদের অবৈধ পন্থায় পরিশোধ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি জনাব মোঃ নুর আলী Unique Eastern (Pvt.) Ltd.(RL-21) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনিও ২০১৭-১৮ মেয়াদের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ১০ জনের সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন এবং ২০২২-২৪ এর মেয়াদে ১০১টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি অন্তর্ভুক্ত হয়ে ব্যবসা করেছেন। তবে এসকল ব্যক্তির বা এজেন্সির বিরুদ্ধে কোন প্রকার অভিযোগ না করে এক শ্রেণীর রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকগণ সিন্ডিকেটের নামে বিভিন্ন মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
বিশেষত: Human Resource Development Center (RL- 452 ) এর ম্যানেজিং পার্টনার জনাব মো: ফখরুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসার সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও ব্যবসায়িক প্রতিযোগীতা এবং বায়রা’র আসন্ন নির্বাচনে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়ায় অপ-প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিজে সিন্ডিকেটর সাথে যুক্ত থাকলেও সিন্ডিকেটের ১০১টি এজেন্সির মধ্যে প্রথম পর্যায়ে তালিকাভূক্ত ২৫টি এজেন্সির বিরুদ্ধে এবং বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে নেতৃত্বদানকারী দুই একজনকে নিয়ে মিথ্যা ও ক্ষতিকর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই বিষয়টি পুরো জনশক্তি রপ্তানি খাতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
জনশক্তি রপ্তানি খাতের স্বার্থে এসকল মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করে দু'দেশের সরকারের মধ্যে ইতোমধ্যে শুরু হওয়া আলোচনায় সহযোগীতা করে আটকে থাকা কর্মীদের মালয়েশিয়ায় প্রেরণে এবং নতুন কর্মীদের সে দেশে কাজের সংস্থানে সরকারের সাথে সহযোগী ভূমিকা পালন করা আবশ্যক।