মানব পাচার নয়, চুক্তি মোতাবেক সুশৃঙ্খল কর্মী প্রেরণ
প্রকাশিতঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৪ | English Version
প্রকাশিতঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৪ | English Version
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, নির্ধারিত নিয়ম এবং যাচাইকৃত পদ্ধতিতে কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে, যা মানব পাচার নয়। এই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী নিয়োগে অংশ নেয়। প্রতিটি ধাপে কর্মী যাচাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়। নিয়ম মেনে, বৈধভাবে কর্মীদের পাঠানো হওয়ায়, এই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় মানব পাচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি, বরং কর্মীরা মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার ২০২১ সালের ১৯শে ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক মোতাবেক মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের লক্ষে সরকারি খাতের BOESL সহ ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সেদেশে কর্মী প্রেরণের জন্য তালিকাভুক্ত করে।
তালিকাভুক্ত বাংলাদেশী এই রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহ মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক Auto Allocation System-এ বরাদ্দপ্রাপ্ত কোটার কর্মী নিয়োগের জন্য দু'দেশের সরকারের নির্ধারিত পদ্ধতি মোতাবেক কর্মীদেরকে মালয়েশিয়ায় প্রেরণ করেছে। এক্ষেত্রে দু’দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি, মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোটায় কর্মী নিয়োগের লক্ষে মালোশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন হতে ডি্ম্যান্ড লেটার সত্যায়ন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক কর্মীদের নিয়োগানুমতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, কর্মী নিয়োগের অনুমোদন (Quota) প্রাপ্তির পর নিয়োগকর্তাগণ মালয়েশিয়া সরকারকে প্রতিটি কর্মীর জন্য লেভির অর্থ পরিশোধ করে কলিং ভিসা এবং ই-ভিসার অনুমোদন সংগ্রহ করেছে। এছাড়া নিয়োগকর্তা অনুমোদিত কোটার কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন হতে ডিম্যান্ড লেটার সত্যায়নের জন্য ফি পরিশোধ করেছে।
অত:পর দুই দেশের সরকারের অনুমোদিত পদ্ধতিতে কর্মী বাছাই, সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর নিয়োগকর্তা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট হতে এসকল কর্মীদের জন্য গ্রুপ ভিত্তিক কলিং ভিসার অনুমোদন গ্রহণ করে। অত:পর মালয়েশিয়া সরকারের Online System মারফত e-Visa’র আবেদন করা হয়। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক কর্মীর জন্য স্বতন্ত্রভাবে e-Visa‘র অনুমোদন দিলে ঢাকাস্থ মালয়েশিয়া হাই কমিশন হতে উক্ত ভিসা সংগ্রহ করা হয়। এসকল পদ্ধতি সম্পন্নের পর কর্মীদের প্রাক বহির্গমন ট্রেনিং সম্পন্নের সনদ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিএমইটি’র চূড়ান্ত বহির্গমন ছাড়পত্র পাওয়ার পরই কেবলমাত্র কর্মীদেরকে মালয়েশিয়ায় কাজে প্রেরণ করা হয়েছে।
৩ (১): (ক) ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগ করিয়া; বা
(খ) প্রতারণা করিয়া বা উক্ত ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক বা পরিবেশগত বা অন্য কোন অসহায়ত্বকে (Vulnerability) কাজে লাগাইয়া; বা
(গ) অর্থ বা অন্য কোন সুবিধা (kind) লেনদেন-পূর্বক উক্ত ব্যক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ রহিয়াছে এমন ব্যক্তির সম্মতি গ্রহণ করিয়া;
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে যৌন শোষণ বা নিপীড়ন বা শ্রম শোষণ বা অন্য কোন শোষণ বা নিপীড়নের (exploitation) উদ্দেশ্যে বিক্রয় বা ক্রয়, সংগ্রহ বা গ্রহণ, নির্বাসন বা স্থানান্তর, চালান বা আটক করা বা লুকাইয়া রাখা বা আশ্রয় দেওয়া (harbour)।
৩ (২): শিশু পাচার সংক্রান্ত অপরাধ বিধিসম্মতভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।
দু'দেশের প্রচলিত আইন কানুন বিধি-বিধান ও চুক্তির শর্ত মেনে কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে বিধায় ইহা কোনভাবেই মানব পাচার আইনের আওতায় পড়ে না। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে কর্মীরা যাতে কোনভাবেই মানব পাচারের স্বীকার না হয় সেজন্য নিয়োগকারী দেশ মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিম্যান্ড লেটার-এর যথার্থতা যাচাইপূর্বক মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন উহা সত্যায়ন করে। উক্ত সত্যায়িত ডিম্যান্ড লেটার মন্ত্রণালয় পুনরায় যাচাই-বাছাই করে কর্মীদের নিয়োগানুমতি দেয়। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) চূড়ান্তভাবে যাচাই-বাছাই করে বর্হিগমন ছাড়পত্র দেয়। এই বর্হিগমন ছাড়পত্র ব্যতিত কোন কর্মী e-Visa নিয়ে মালয়েশিয়ায় গমন করতে পারেননি। এতসব ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের পরও সংশ্লিষ্ট দেশে কর্মে যোগদানের পর রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহ তাদের বেতন-ভাতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তার বিধানে দায়িত্ব নিতে হয়। মালয়েশিয়ায় গমনের পূর্বেই ইংরেজি এবং বাংলা উভয় ভাষায় সম্পাদিত চুক্তিপত্র নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় যা’ উভয়পক্ষ কর্তৃক মেনে চলার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার এবং কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন নিশ্চয়তা বিধান করে। এর কোন ব্যত্যয় হলে নিয়োগকর্তাকে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে এবং রিক্রুটিং এজেন্সিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। সুতরাং এক্ষেত্রে কোন কর্মীকে জোর করে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা কোন তথ্য গোপন করে মালয়েশিয়ায় প্রেরণ করা হয়নি। এছাড়া কোন কর্মী এ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন অভিযোগ করেননি বরং তারা মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াটির জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এবং সমঝোতা স্মারক ও দেশের আইন-কানুন মেনে অভিবাসন প্রক্রিয়াটি সম্পন্নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সরকার এই অভিবাসন প্রক্রিয়াার জন্য এজেন্সিসমূহের কাছ থেকে ট্যাক্স, ভ্যাট গ্রহণ করেছে, বিএমইটি’র ছাড়পত্রের জন্য ফি গ্রহণ করেছে। সুতরাং পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াটি দুই সরকারের আইনের আওতায় সম্পন্ন হয়েছে।
মালযেশিয়ায় কর্মীদের এই অভিবাসন প্রক্রিয়ার কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি বা আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করা যেতে পারে এবং এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে পৃথকভাবে কোন একটি বিভাগ বা দপ্তর কর্তৃক মালয়েশিয়া সরকারের কোন নীতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করা হলে দুই দেশের সরকারের মধ্যে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে যার কারণে দেশের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহ জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন ২০১৩”-এর সকল নির্দেশনা মেনে কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে বিধায় মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সি সমূহ কোন অপরাধ করেনি।