২০২২ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ৪.৭৫ লক্ষ বাংলাদেশি কর্মী অনলাইন প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় গমন করেছেন, যারা বর্তমানে ৫০ হাজার টাকা মাসিক বেতন ও ওভারটাইমসহ উপার্জন করছেন এবং বৈধ চ্যানেলে বেতন পাচ্ছেন। এতে বছরে বৈদেশিক আয় প্রায় ২৮,৫০০ কোটি টাকা হবে। এই ধাপে প্রেরিত কর্মীরা এবং তাদের পরিবার মিলিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ উপকৃত হয়েছে। মালয়েশিয়ার অনুমোদিত ১০১টি এজেন্সির পাশাপাশি প্রায় ১১০০ রিক্রুটিং এজেন্সি অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে। তদন্ত ও মিডিয়া প্রচারণার প্রভাব নিরসনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ এবং দায়িত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও উন্মুক্ত হবে।
বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় ২০২২ সালের ৮ই আগষ্ট হতে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ২২ মাসে পৌনে পাঁচ লক্ষ বাংলাদেশী কর্মী মালয়েশিয়ায় গমন করেছে।
অভিবাসন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় কোন কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রতারিত হননি বরং যথানিয়মে নিয়োগকারী কোম্পানিতে কাজে যোগদান করতে পেরেছেন এবং নিয়মিত ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।
এসকল কর্মীগণ ন্যূনতম ১৫০০ রিঙ্গিত মূল বেতন এবং ওভারটাইমসহ মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এই হিসেবে মাসে সকলে মিলে ৪,৭৫,০০০ x ৫০,০০০=২৩৭৫ কোটি টাকা এবং বছরে আয় করবেন ২৮,৫০০ কোটি টাকা।
এসকল কর্মীদের সকলেই ভালো আছেন এবং তাদের নিকট থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অধিকন্তু মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্মীদের চুক্তি মোতাবেক সকল প্রকার অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে অত্যান্ত আন্তরিক।
বর্তমান ধাপের কর্মীগণ মালয়েশিয়ায় কাজে যোগদানের পর হতে বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া ৮ম থেকে ৪র্থ স্থানে উন্নীত হয়েছে। শুধুমাত্র ২০২৪ সালের আগষ্ট মাসে মালয়েশিয়া হতে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৫১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল এর ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ বিনা খরচে (Employers Pay Model / Zero Cost Migration) ৩৫৮ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে। নিয়োগকারী কোম্পানি সকল অভিবাসন ব্যয় বহন করেছে এবং আমাদের এজেন্সিকেও ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়া হতে রিক্রুটিং চার্জ পরিশোধ করেছে।
বর্তমান ধাপে মালয়েশিয়ায় গমনকারী পৌনে পাঁচ লক্ষ কর্মীর পরিবার-পরিজন মিলে অন্তত: ২৫ লক্ষ মানুষ উপকৃত হয়েছে।
মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ১০১টি এজেন্সিসহ সহযোগী এজেন্সি এবং নিয়োগকারীর Power of Attorney মারফত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রায় ১১০০ রিক্রুটিং এজেন্সি বর্তমান ধাপের মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়।
কোন একটি দেশে কর্মী প্রেরণকারী এজেন্সির বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে দুদক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পুন:পুন: তদন্ত অথবা মিডিয়ার ক্রমাগত অপপ্রচার নিয়োগকারী দেশে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে, যার ফলে ঐ দেশে কর্মীদের অভিবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়।
সরকারের এ্যালোকেশন অব বিজনেস মোতাবেক জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় হচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এমতাবস্থায়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় দুদক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চলমান / সম্ভাব্য তদন্ত স্থগিত করে জনশক্তি রপ্তানি খাতে নিয়োজিত এজেন্সি সমূহকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ, তদন্ত পরিচালনা ও বিদ্যমান আইনের আওতায় তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা দান করলে এই সেক্টরে বর্তমানে যে অস্থীরতা বিরাজ করছে তা রহিত হবে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য শীঘ্রই পুনরায় উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা যায়।
মালয়েশিয়া সরকারের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে সেদেশের প্লান্টেশন ও কৃষি খাতে বিদ্যমান বৈদেশিক কর্মীর ব্যাপক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কর্মীদের সুযোগ গ্রহণের আশু সম্ভাবনা রয়েছে।